Sunday, July 29, 2018

Wednesday, December 23, 2015

ব্রিটিশ দম্পতি প্রমান করলেন তারা পেয়েছেন ভূতের দেখা! - See more at

 ব্রিটেনের অন্যতম বিখ্যাত দুর্গ 'ডুডল ক্যাসেল'। ডিন হার্পার ও তাঁর স্ত্রী অ্যামি হার্পার সেই ক্যাসেলে ঘুরতে গিয়েছিলেন। ক্যাসেলের বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে মোবাইলের মাধ্যমে প্রচুর ছবি তুলছিলেন। কিন্তু অবাক হলেন, যখন তোলা ছবিগুলো দেখতে লাগলেন। একটা ছবিতে বেশ দেখা যাচ্ছে দাঁড়িয়ে আছে ভূত!
এক্সপ্রেস.কো.ইউকে-এ প্রকাশিত একটি খবর থেকে জানা যায় এই খবর। ঐ দম্পতির দাবি তারা ভূত দেখেছেন।
উল্লেখ্য, ১০৭১ সাল থেকে ডুডলে ক্যাসেল হন্টেড হিসাবে পরিচিত। হার্পার দম্পতির বিশ্বাস ছবিটা ভৌতিক কোনও কিছুর অস্তিত্ব প্রমাণ করছে। ৩০ অগাস্ট এই ছবিটি তুলেছিলেন অ্যামি হার্পার।
ফটো ক্রেডিটঃ কেটারস, এক্সপ্রেস.কো.ইউকে

Tuesday, December 22, 2015

আসুন একটি সত্যিকার ভৌতিক ঘটনা জানি, অন্যান্য।

আমার জীবনে ঘটে যাওয়া প্রথম সত্যিকার ভৌতিক ঘটনা।

ভৌতিক ঘটনা
ভূত





আজ আমি আপনাদের আমার জীবনে ঘটে যাওয়া কয়েকটি ভৌতিক ঘটনার মধ্যে একটি ঘটনা বলতে যাচ্ছি। আশা করি ভালো লাগবে।

যাই হোক এখন শুরু করা যাক, ২০১১ সালের কথা আমার গ্রামের বাড়ি ফেনীতে আমি আমার ফুফাতো ভাইয়ের মেঝো ছেলের আকীকার দাওয়াত পাই। দাওয়াতটিতে যাওটা অকেটা বাধ্যতামূলক ছিল

আর তাই নানা ঝামেলা থাকা সত্ত্বেও যেতে হয় সেই দাওয়াতে। বাড়ির অনুষ্ঠানে যা হয় গরু ছাগল এনে একাকার যেহেতু অনুষ্ঠানটি আকিকার। 

আমি ঢাকা হতে যেতে প্রায় বিকাল হয়ে যাই আর এই কারণেই হয়তো শরীর একটু কাহিল ছিল। বাড়িতে যেতে যেতেই বিকাল হয়ে সন্ধ্যা নেমে আসে। নানা

ফরমালিটিস পালন করতে করতে রাত হয়ে যায় আর ভোর রাতের দিকে বাবুর্চি, কসাই আসবে বলে আগে আগেই রাতে ঘুমিয়ে পরি আর একটু পরেই ঘটে যায় আমার জীবনের প্রথম ভৌতিক ঘটনা । 

ঘুমাতে ঘুমাতে হঠাৎ অনুভব করলাম কে যেন আমার পা টানছে আর আমাকে ডাকছে।  ঘুমন্ত অবস্থায় টের পাচ্ছিলাম যে আমাকে ডাকছে সে আর কেউ না আমার ফুফাতো ভাই-ই হবে আর যখন আমি আমার দুই চোখ খুললাম আমার অনুমানটি আর ভুল হলো না দেখি আমার ভাই সে আমাকে ইশারা দিয়ে বললো "আয় সময় হয়ে গিয়েছে আমি বাহিরে আছি তুই আয়"। আমি আর অপেক্ষা না করে মোবাইলে সময়টা দেখি তখন সময় হবে আনুমানিক রাত ৩.৩০টা, ঘুম থেকে উঠে বাহিরে যাবো এমন সময় আমার ফুফু বলে উঠলো "কিরে কোথায় যাস" আমি বললাম "ভাইয়া ডাকছে বাহিরে যাব" আমার এই কথা শুনে ফুফু একটু যেন অভাক দৃষ্টিতেই তাকালো আমি কিছু বলার আগেই দেখি অন্য রুম হতে আমার আরেক ফুফাতো ভাই বের হয়ে আসলো এবং আমাকে বললো আয় বাহিরে বের হই। আমি তখনও জানি না ব্যাপারটা কি, আমি যখনি বাহিরে বের হয়েছি তখনই টের পেলাম বাহিরটা একদম অন্ধকার এবং চারপাশ একদম নিশ্চুপ আমি ঠিক তখনিই ভাইকে বললাম ভাইয়া এখন কয়টা বাজে আর উনি তার মোবাইলে আমাকে সময় দেখালো সময় দেখে আমি নিজেকে মোটেও বিশ্বাস করাতে পারছিলাম না যে, একটু আগে আমি মোবাইলে কি দেখলাম আর এখন কি দেখছি এখন বাজে রাত ১.০০ কিন্তু আমার একদম স্পষ্ট মনে আছে আমি মোবাইলে দেখেছিলাম তখন ছিলো রাত ২.৩০। এই সমীকরণ আমি কিছুতেই মেলাতে পারছিলাম না। 

আপনারা হয়তো মনে করবেন আমার ঘটনাটি এখানেই শেষ মোটেও না আমার মাথা আরও ঘুরিয়ে গেলো যখন আমার বড় ফুফুতো ভাইকে বললাম ভাইয়া "শিপন ভাই কোথায় উনে আমাকে না ডাকলো ডেকে কোথায় গেলো" আমার বড় ভাই শুনে বললো কিরে তুর কি হয়েছে তোকে না রাতে শিপন বললো ও রাতে একটু বাজারে যাবে আসতে আসতে রাত হবে আমার ঠিক তখনি মনে  পরলো আমি যখন ঘুমাতে যাই শিপন ভাই-এর সাথে কথা হয় যে উনি রাতে বাড়িতে থাকবে না গ্রামে কার জানি একটি বিচার হবে তাকে সেখানে থাকতে হবে। এতেও আমার মন কেমন যেন করছিলো তাই আমি সাথে সাথে শিপন ভাইকে ফোন দেই এবং বলি উনি কোনো সময় বাসায় এসেছিল কিনা আর উত্তরে শুনি উনি আসেননি তাহলে ঐ লোকটি কে ছিল যে আমাকে ডেকেছিল না সেটা একান্তই আমার মনের ভুল ছিল ও আরেকটি কথা যে কক্ষে আমি ঘুমিয়েছিলাম সেটি ছিল আমার ফুফার কক্ষ যে ২০০৯ সালে পরলোক গমন করেন আর ওনি খুবই খুবই আল্লহভীরু ছিলেন এবং এমন কোন রাত যেত না যে উনি তাহাজ্জদের নামায পড়তেন না। আর ঘটনাটি যখন জানাজানি হয় তখন বাড়ির মুরিব্বিরা বলছিলেন যে এটি যা ছিল ভালোই ছিল  কারন সেটি হয়তো চাচ্ছিলো আমাকে জাগিয়ে নামায পড়ানোর জন্য যেহেতু আমি প্রতিদিনই কমবেশি চেষ্টা করি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পোড়তে।

আমি আজও যখন ঘুমাতে যাই আমার সেই আনুভূতিটার কথা মনে পড়ে আর প্রচন্ড ভয় লাগে। আসলে এসব ঘটনা হলো এমন ধরনের ঘটনা যে প্রত্যক্ষ করেনি সে কখনিই বলতে পারবে না যে সেটা কতটা লোমহর্ষক। আজকের মতো আমার ঘটনাকে এখানেই ইতি টানছি বলার মতো আরও অনেক ঘটনা আছে যদি জানতে চান তাহলে পোস্টির নিচে কমেন্টের মাধ্যমে জানিয়ে দিবেন, ধন্যবাদ।

আশা করি পোস্ট পড়ে কিছুটা হলেও ভয় লেগেছে।

জিনকে গাছ থেকে নামাতে নাস্তানাবুদ সেনা, পুলিশ ও দমকল বাহিনী!

 রাত হলেই সাভারের মায়েরা নাকি তাদের বাচ্চাদের সেই জিনের ভয় দেখিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিতেন। অবশেষে সেই জিন গাছ থেকে নেমে এসেছে। তবে সময় গেছে সারারাত। আর নাস্তানাবুদ হয়ে গেছেন সেনাবাহিনী, পুলিশ ও দমকল বাহিনীর সদস্যরা। জিন পরিচয়ে এক নারী এতদিন ঘুরে বেরিয়েছেন গাছে গাছে। এমনকি সামরিক বাহিনীর নিরাপত্তা ভেঙ্গে সবার অগোচরে বাস করে আসছিলেন সামরিক খামারের একটি গাছে। কেরামত আলী নামের একজন ঐ গাছে নিচ দিয়ে যাবার সময় ঘটে ঘটনার সূত্রপাত।
ঘটনাটি ঘটেছে সাভারে। এ যেন এক ভৌতিক কাহিনী। গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে সাভারের সামরিক খামারের একটি গাছের নিচ দিয়ে রাস্তা অতিক্রম করার সময় গাছের ওপর থেকে নারীকণ্ঠ শুনেই চমকে যান কেরামত আলী। তিনি বলেন, গল্পে অনেক ভূত-প্রেতের কথা শুনেছি। মনে হচ্ছিল বাস্তবে আমিও ভূতের পাল্লায় পড়েছি।
কেরামত আলী বলেন, মনে মনে আমি আল্লাহকে ডাকতে থাকি, আর জোর কদমে পা চালাই। যতই পায়ের জোর বাড়ে ততই যেন কাছে আসে নারীর কণ্ঠস্বর। ভাবছি এই বুঝি আমাকে ধরে ফেলল। দৌড়ে কোনোমতে রেডিও কলোনির কাছাকাছি পৌঁছে বিষয়টি নিকটজনদের জানাই। এরপর এ-কান ও-কান হয়ে প্রশাসন পর্যন্ত গড়ায়। জিন-মানবী নিয়ে এমনই লোমহর্ষক কাহিনী উঠে এসেছে নয়াদিগন্ত-র একটি রিপোর্টে।
কেরামত আলী বলেন, পরে আরেক পথচারীর একই অভিজ্ঞতার খবর শুনে প্রথমে পুলিশ, পরে দমকল বাহিনীকে খবর দেন। পরে সেনাসদস্যরাও যান ঘটনাস্থলে। টর্চের আলোতে দেখেন এক নারী বসে আছেন গাছের মগডালে। আর তাকে নিচে নামিয়ে আনতে শুরু হয় প্রশাসনের তৎপরতা।

সেনা, পুলিশ ও দমকল বাহিনীর লাগাতার চেষ্টা এবং ঘাড় মটকানোর হুমকি

সাভার মডেল থানার ওসি মোস্তফা কামাল সাংবাদিকদের জানান, গেছো-মানবীর খবর পেয়ে রাত ৯টায় ঘটনাস্থলে পুলিশ নিয়ে যাই আমরা। তাকে গাছ থেকে নামানোর চেষ্টা করলে তিনি ঘাড় মটকে দেবেন বলে হুমকি দেন। তাকে ধরতে গেলে তিনি গাছ থেকে লাফিয়ে মরে যাবেন এরকম ভয় দেখাতে থাকেন। হাজার হোক একজন নারী। এই অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে আমরা তাকে উদ্ধারের জন্য খবর দেই ফায়ার ব্রিগেডে। সাইরেন বাজিয়ে তারা আসতে না আসতেই সেখানে চলে আসেন ঊর্ধ্বতন সেনাকর্মকর্তারা। স্থানটি সেনানিবাস এলাকা হওয়ায় বিব্রত হন সেনাসদস্যরা। কীভাবে ওই নারী নিরাপত্তাব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে সেনানিবাস এলাকায় প্রবেশ করে একটি গাছে রাতযাপন করেন, সে ব্যাপারে অনুসন্ধান শুরু করেন তারা। এতে দায়িত্ব পালনে নিরাপত্তাকর্মীদের কারো গাফিলতি থাকলে তার ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সেনাকর্মকর্তা।

ভূত পরিচয় থেকে রক্ষা

শুধু কি এই জিনের শিকার কেরামত আলী? না। অনেকেই পড়েছেন এই জিনের পাল্লায়। কেউ জানতই না তিনি জিন না, একজন মানুষ। মঞ্জিল হোসেন নামের একজন যখন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তখন সবার ভুল ভাঙ্গে। তিনি রক্ষা পান জিন পরিচয় থেকে।
ঘটনাস্থলে পৌঁছে মঞ্জিল হোসেন বলেন, গাছ থেকে ভূত নামানোর খবর শুনেই আমি ছুটে যাই সামরিক খামারে। আমার মায়ের নাম আমেনা (৪৫)। সময় হলে তিনি নিজের ইচ্ছায় গাছ থেকে নেমে আসবেন।

দারিদ্র্যর কারণে মাকে জিন হিসেবে মেনে নেয়া

মঞ্জিল হোসেন বলেন, আমরা জানতাম মা দীর্ঘদিন ধরেই রাতে গাছে বসবাস করেন। তবে চক্ষুলজ্জায় বিষয়টি আমরা কাউকে প্রকাশ করিনি এত দিন। প্রায় দিনই গাছে রাতযাপন করছেন আমার মা। এক বেলায় গাছে উঠলে পরের বেলায় নির্দিষ্ট সময়ে নেমে আসেন তিনি। আমরা প্রথম প্রথম খোঁজ নিতাম। গাছে গাছে টর্চ লাগিয়ে মাকে খুঁজতাম। এখন বিষয়টি গা সওয়া হয়ে গেছে। তিনি আরো জানান, অনেকে বলেছে এটা নাকি মানসিক ব্যাধি। আধুনিক চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য আমাদের নেই। কবিরাজের শরণাপন্ন হয়েছি, তাবিজ-কবজ দিয়েছি। কিন্তু তিনি এখনো জিনের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে পারেননি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের আধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম জানান, এ ধরনের রোগী সাধারণত সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত। তারা মানসিক বিভ্রাট ও হ্যালোসিনেশনে ভোগে।
আমেনার মেয়ে রুবিনা বেগম বলেন, বিকেল ৩টা নাগাদ ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে পড়েন মা। একপর্যায়ে আমাদের চোখকে ফাঁকি দিয়েই উধাও হয়ে যান মা। পরে রাতে আবিষ্কার করি গাছের মগডালে রয়েছেন তিনি।
রাতে টহলে থাকা এক পুলিশ সদস্য জানান, সব চেষ্টা ব্যর্থ হলে আমরা নিজেরা একপর্যায়ে পদক্ষেপ নেই ওই নারীকে গাছ থেকে নামিয়ে আনতে। একজন গাছে ওঠা মাত্রই প্রচণ্ড শক্তিতে তিনি গাছে ঝাঁকুনি দিতে থাকেন। শেষে ভোরে উপস্থিত অনেকের চোখকে কপালে তুলে শান্ত আর স্বাভাবিকভাবে গাছ থেকে নেমে আসেন গেছো-মানবী। এর পর ছেলে আর মেয়ের হাত ধরেই বাড়ির পথে হাঁটা দেন তিনি।

দিল্লির রাস্তায় দেখা মিলল ভূতের! (ভিডিও)

(প্রিয়.কম) মাঝরাতে দিল্লির রাস্তায় সাদা শাড়ি পরা এক মহিলাকে ধীর গতিতে হেঁটে যেতে দেখা গেল। কিন্তু অদ্ভূত বিষয় খানিকক্ষণ বাদেই তিনি উধাও। আবার হয়ত রাস্তার অন্য ধারে হঠাৎই দেখা মিলল তার। রাস্তার সকলেই তাকে দেখে দূরে পালিয়ে যাচ্ছেন। বা উন্মাদের মত উল্টো দিকে ছুটতে শুরু করছেন। তবে কি তিনি ভূত!
সম্প্রতি এমনই এক ভিডিও সোশ্যাল সাইটে ভাইরাল হয়েছে। এই ভিডিওতে দেখা গিয়েছে মহিলা এক অটোচালকের কাছে পৌঁছতেই সে ছিটকে অটো থেকে বেড়িয়ে দৌড়তে শুরু করেছে। রাস্তার ধারে অনেক গাড়িও মহিলাকে দেখে থমকে গেলেও আবার স্টিয়ারিং ঘুড়িয়ে দে-দৌড়। রাস্তার অনেক লোকই মহিলাকে দূর থেকে দেখেছেন কিন্তু তার কাছে যাওয়ার সাহস কারও হয়নি।
সোশ্যাল সাইটে রীতিমতো চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এই ভিডিও। কিন্তু এটি কোনও ভূতের গল্প আদতে নয়। এটি নিছক একটি মজা। আপনিও একবার ভিডিওটি দেখেই নিন।
তথ্যসূত্র: কলকাতা২৪
টপিক: 
ঘটনার স্থান: 

Saturday, December 12, 2015

সিংহাসন

আজ আপনাকে এক অদ্ভুত গল্প শোনাবো। যদি ও জানি আপনি এর এক দন্ড ও বিশ্বাস করবেন না। ভাববেন আমি পাগল কিনবা বদ্ধ উন্মাদ। কিনবা মানসিক হাসপাতাল থেকে পালিয়ে আসা কেউ। কিন্তু বিশ্বাস করেন আমি আজ যে কথা গুলো বলবো তাতে বিন্দু মাত্র মিথ্যা লুকানো নেই। আমি লেখক হতে পারি, বানিয়ে বানিয়ে প্রচুর গল্প লিখতে পারি - কিন্তু আমি আজ যে জিনিসটা নিয়ে আপনাদের কাছে লিখছি সেটা আমার সামনেই আছে। একটা সামান্য সিংহাসন মাত্র এটা। আমি এটাতে বসেই লিখছি আপনার কাছে। আমি এটা সম্পর্কে যা যা লিখবো সব সত্য লিখবো এটা প্রতিজ্ঞা করেই শুরু করলাম। ঘটনার শুরু যখন আমি মেসে থাকি- ঢাকায় এক অভিজাত এলাকায়।বাবার অনেক টাকা থাকায় আমোদ ফুর্তিতে আমি ছিলাম একেবারেই মত্ত। আমি পড়তাম এক অভিজাত প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি তে। সারাদিন আড্ডা- নেশা করা- বিভিন্ন যায়গায় হটাত করে চলে যাওয়া ছিল আমার নিত্য দিনের অভ্যাস। আমি কুমিল্লার ধর্ম সাগরে নেশা করে নৈকায় ঘুরেছি- সমুদ্রে চাঁদের আলোর নিচে বসে বসে বন্ধুদের মাঝে বিলিয়েছি ঘুমের মন্ত্র। নীল পাহাড়ে গিয়েছি একদম ঠান্ডার মাঝে। এসব করে অভিজ্ঞতা ও আমার কম হয়নি। আমি সেই অভিজ্ঞতা গুলো জমিয়েই লিখেছি ১০ টা উপন্যাস। সব গুলোই বই আকারে আছে। আপনারা হয়ত "নীলাভ তারার কালচে আলো" উপন্যাস টা পড়েছেন। এইত কদিন আগে ঈদে এটা থেকে নাটক হয়ে গেল। জাহিদ হাসান আর জয়িতা অভিনয় করেছিল। যাই হোক সেই এক সময় আমি গিয়েছিলাম সুন্দর বন। সময়টা বেশিদিন আগের না। মাত্র তিন মাস আগে। প্রথমে গিয়েছিলাম খুলনা- সেখান থেকে বরগুনা ঘুরে সুন্দরবন । একসপ্তাহ ছিলাম আমি সেখানে- সাথে ছিল আমার তিন মেস মেট। আমরা একসাথেই পড়ি। লেখা পড়া শেষ হবার উপলক্ষে আমাদের এই ট্যুরের স্পন্সর আমি। ফেরার আগেই ছয়দিন আমরা অনেক অনেক আনন্দ করেছি। টাকা খাইয়ে এক বনবিভাগের লোক কে আমরা ঢুকে ছিলাম চিত্রা হরিণ শিকার করতে। আমি নিজেই একটা মেরেছি। সেটার মাংস পুড়িয়ে খেয়েছি নদীর পাড়ে। আমি যেখানেই যাই অঢেল টাকা নিয়ে যাই। সেবার ও নিয়েছিলাম অনেক টাকা। ইচ্ছা ছিল সব ঊড়িয়ে খালি হাতে দেশে ফিরব। কিন্তু হলনা। সুন্দরবন থেকে ফেরার পথে আমরা খোঁজ পেলাম একটা বজরার। এটা এক সৌখিন মানুষ সুজন মোল্লার। উনার বজরা তে আমরা ঊঠেছিলাম শুধু মাত্র নৌকা ভ্রমণের জন্য। কিন্তু সেখানে গিয়েই আমরা জানতে পারি এই বজরা ছিল কুখ্যাত ডাকাত করিম মোল্লার। এবং এই সুজন মোল্লা তার ই সন্তান। শুনে তো আমরা অনেক ভয় পেয়ে যাই। কিন্তু আমাদের সুজন মোল্লা অভয় দেয়। সে এখন ডাকাতি করেনা। তার বাবার রেখে যাওয়া অঢেল টাকা আছে। সে কোন কাজ করেনা- পায়ের উপর পা তুলে খায়। এভাবে কথায় কথায় আমাদের সাথে সুজন মোল্লার বেশ ভাব হয়। আমরা সেইদিন রাতে বজরায় একসাথে জোছনা দেখলাম। পরদিন আমাদের তিনজন কে সুজন মোল্লা কিছু অদ্ভুত জিনিস দেখালো। সেগুলো ছিল তার ই বাবার রেখে যাওয়া ডাকাতির মাল পত্র। এর মাঝে একটা সিংহাসন দেখলাম আমি। দেখেই আমার খুব ভাল লেগে গেল। আমি এটার কাহিনী জানতে চাইলেই উনি বললেন আজ থেকে প্রায় বছর পঞ্চাশ আগে একবার ডাকাতি করতে গিয়ে আরেক ডাকাত এর সাথে লড়াই করে এই সিংহাসন কেড়ে নেন করিম মোল্লা। সেই ডাকাত- যে এই সিংহাসন এর মালিক ছিল - সে এটা পেয়েছিল তার বাবার কাছ থেকে। তার বাবা ছিল ব্রিটিশ আমলের কুখ্যাত ডাকাত নিরঞ্জন পালী। তিনি এটা নিয়ে এসেছিলেন উত্তর বাংলার জমিদার জ্ঞানদা চরণ মজুমদার এর সভাকক্ষ থেকে। নিরঞ্জন পালী বেশ হিংস্র ছিলেন। তিনি যখন এই সিংহাসন কেড়ে নিতে যান তখন এটাতেই বসা ছিলেন জ্ঞানদা চরণ। একটা তলোয়ার জ্ঞানদা চরণের পেটে আমুল বসিয়ে লাশ সহ সিংহাসন নিয়ে আসেন তার আস্তানায়। সেখান থেকে হাত ঘুরে এই বজরায়। এটা পাওয়ার পর প্রায় ১৫০ বছর অতিবাহিত হয়েছে। কিন্তু এখন ও সিংহাসনটার অদ্ভুত জেল্লা দেখে আমি অবাক হলাম।সিংহাসন এর উচ্চতা আনুমানিক চার ফুট। সবার উপরে একটা ময়ুরের মাথা আর পালক। সেই পালকে গাথা শ'খানেক মুক্তা আর নীলা। দুই হাতলে আছে অদ্ভুত সিংহ খচিত কারুকাজ। হাতলের শেষে সিংহের মুখ হা করে আছে। আর চোখ দুটো তে উজ্জ্বল পাথর। পিঠের নিচে আছে মখমলের নরম আবরন। পায়া চারটার মাঝে জ্বল জ্বল করছে সাতটা করে নীলা। কালচে রং এর কাঠের আবরনে এখন ও কেমন যেন রাজা মহারাজা আবেশ ছড়িয়ে আছে। আমি অদ্ভুত চোখে তাকিয়ে ছিলাম সিংহাসনটার দিকে। আসলে এই রকম একটা জিনিস এই ভাঙ্গা বজরাতে থাকতে পারে সেটা নিজের চোখেই বিশ্বাস হচ্ছিল না। যাদুঘরে রাখার মত এই সম্পদ এই আস্তাকুড়ে নৌকায় পড়ে আছে ভাবতেই মনটাই খারাপ হয়ে গেল। আমার সাথে এক লাখের মত টাকা ছিল। আমি সুজন মোল্লা কে তখন ই সিংহাসনটা কেনার জন্য আবদার করলাম। সুজন মোল্লা ও না করেনি। আমাদের কে জিনিস গুলো দেখানো মানেই ছিল এগুলো আমাদের কাছে বিক্রি করে তার পেট চালানোর ধান্ধা। কিন্তু সে যা দাম চাইল তাতেই মাথায় হাত পড়ল আমার। সেই এই সিংহাসন এর দাম হাঁকল দশ লাখ টাকা। আমি ঊষ্ণা প্রকাশ করতেই সে একজন জহুরী ডাকাল। সেই জহুরী প্রতিটা পাথর আমাদের
সামনে পরীক্ষা করে জানাল প্রতিটি পাথর ই মহামুল্যবান। সব মিলিয়ে এই সিংহাসন এর দাম কম করে হলেও কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। আমি সেই দিনেই আব্বাকে ফোন করে টাকার ব্যাবস্থা করলাম। উনি সাথে দুইজন লোক ও পাঠিয়ে দিলেন। ঐ লোকগুলো সিংহাসনটাকে নিয়ে রওনা দেয় আমার মেসে এর উদ্দেশ্যে। আমি ঢাকায় পৌছানোর একদিন পরেই ঢাকায় পৌছায় আমার সিংহাসনটা। কিন্তু এটা আনার পরদিন ই এক অদ্ভুত কান্ড ঘটে। রাতে আমি একটা অ্যাসাইনমেন্ট এর কাজ এ দেরী করে ঘুমিয়ে ছিলাম। সকালে ঘুম থেকে ঊঠে দেখি সিংহাসন এর বসার যায়গায় মরে পড়ে আছে একটা বাচ্চা ইদুর। আমি কাজের বুয়া কে ইদুরটা সরাতে বলেই চলে গেলাম ভার্সিটি। যখন ঘরে ফিরি তখন সন্ধ্যা। আমি কলিং বেল অনেক বার টিপে ও কেউ খুলে না দিলে দাড়োয়ান ডেকে দরজা ভাঙ্গার ব্যাবস্থা করি। এবং দরজা ভেঙ্গে আমার রুমে গিয়ে যা দেখি তার জন্য আমি কোনদিন প্রস্তুত ছিলাম না। দেখলাম সিংহাসন এর উপর কাজের বুয়া অদ্ভুত ভাবে পড়ে আছে। নাক দিয়ে রক্তের একটা ধারা। আর কোন আঘাতের চিহ্ন নেই। দেখে আমি হতভম্ভ। তাড়াতাড়ি হাসপাতাল নিয়ে যাই। সেখানে জানায় সে মারা গেছে অনেক ক্ষন আগে। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ জনিত কারনে। ডাক্তার পুলিশ কেস করতে বলেছিল। আমি টাকা খাইয়ে ডাক্তার কে ম্যানেজ করি। টাকা খাইয়ে দাড়োয়ানের মুখ ও বন্ধ করি। এবং কাজের বুয়ার পরিবার কে দশহাজার টাকা দিয়ে চুপ থাকতে বলে ছেড়ে দেই সেই মেস। এবং সিংহাসনটাকে পাঠিয়ে দেই আমার গ্রামের বাড়িতে। সেখানে আব্বাই আমাকে সেটা পাঠিয়ে দিতে বলেন। এবং আমার দুর্ভাগ্যের শুরু সেখান থেকেই। দুই সপ্তাহ পর বাসা থেকে জরুরী ফোন আসল। বলা হল আমার খালা খুব অসুস্থ। আমি যেন চলে আসি। আমি তড়িঘড়ি করে গিয়ে দেখি খালা মারা গেছেন। আমি লাশের মুখ টা দেখতে চাইতেই দেখলাম খালার নাকের কাছে জমে থাকা লালচে রক্ত। বুঝতে বাকি থাকল না যে খালা সেই সিংহাসন এ বসেই মারা গেছেন। আমি সেইদিন ই জানাজার পর ফোন করলাম সুজন মোল্লা কে। সে আমাকে জানাল এই সিংহাসন অভিশপ্ত। কেউ এটাতে বসলেই সে একটা ঘোরের মাঝে চলে যায়। তারপর সে আস্তে আস্তে ঘুমিয়ে পড়ে। সেই ঘুম কখনো ভাঙ্গে না। এতেই সুজন মোল্লার বাবা করিম মোল্লা মারা যান। এটাতেই মারা যায় সুজন মোল্লার মেয়ে জামাই।এই কথা আমাকে আগে কেন জানায় নি জানতে চাইতেই ঐ পাশ থেকে ফোন কেটে দেয় সুজন মোল্লা। বুঝলাম ডাকাতি না করলে ও স্বার্থের জন্য করেনা কিছু বাকি নেই তার। দশ লাখ টাকার জন্য মেরে ফেলেছে দুজন
মানুষ কে। আমি সেই দিন ই লুকিয়ে ফেললাম সিংহাসনটাকে। বাড়িটা বিশাল আমাদের। পুরোনো বাড়ি- অনেক গুলো রুম। আমি একটা স্টোর রুমে লুকিয়ে ফেললাম সেটাকে। কিন্তু থামাতে পারলাম না মৃত্যু। ঠিক দুইদিন পর খবর আসল আমার বড় ভাই মারা গেছেন। আমি গেলাম সেখানে। গিয়ে দেখলাম ভাইয়ার ও একই অবস্থা। নাকের কাছে এক ফোঁটা রক্ত। বুঝলাম ভাইয়া কোন একটা কাজে সেই স্টোর রুমে গিয়েছিলেন। গিয়েই চেয়ারটা দেখে লোভ সামলাতে না পেরে বসে পড়ে। আর মারা যায়। আমি প্রায় উন্মাদ হয়ে গেলাম।ভাইয়ার মৃত্যু কে আমার আম্মা মেনে নিতে পারেন নি। তিনি পরদিন স্ট্রোক করে মারা যান। এবং একে একে আমাদের পরিবারের এগার জন এই সিংহাসন এ বসে বসে মারা গেলেন। আমি শুধু দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। কিছু ই করার ছিলনা। কারো কাছে বিক্রি ও করতে পারছিলাম না লুকিয়ে ও রাখতে পারলাম না। যেন একের পর এক মানুষ কে টেনে নিয়ে মারে ইচ্ছা মত সিংহাসনটা।আমাদের পারিবারিক গোরস্থানে একটু আগে আমার আব্বাকে কবর দিয়ে এসে সিংহাসনটাতে বসেই লিখছি এই সব। বিশ্বাস করেন এর একবিন্দু ও মিথ্যা না। আমি যা যা লিখেছি তার সব সত্য। যেমন একটু আগে থেকে আমি একটা খুব সুন্দর মেয়েকে দেখতে পাচ্ছি। চমৎকার একটা শাড়ি পড়ে আছে। হাতে একটা থালা। তাতে নানা রকম ফল। আমি লেখার ফাঁকে ফাঁকে মেয়েটাকে দেখছিলাম। এখন মেয়েটা আস্তে আস্তে সামনে এসে আমাকে ফল খাওয়ালো। আমি ও খেলাম।কি ফল জানিনা। কোনদিন
খাইনি। কিন্তু আশ্চর্য স্বাদ। মেয়েটা এরপর থালাটা মাটিতে রেখে নাচ শুরু করল। আমি ঊঠে মেয়েটার সাথে নাচতে চাইলাম। কিন্তু আমাকে জোর করে বসিয়ে দিল আরো দুই জন হটাত করে উদয় হওয়া মেয়ে। তারপর আমাকে একজন একটা হাত পাখা দিয়ে বাতাস করতে লাগল। আরেকজন একটা রুপার পাত্রে ঢেলে দিল মদ। আমি মদ খেয়ে মাতাল হতে শুরু করেছি। তাই লিখতে পারছিনা। হয়ত এটাই আমার জীবনের শেষ ক্ষন। কারন একটু আগেই নাকের কাছে একটা সরু রক্তের ধারা টের পেয়েছি। কিন্তু কিছুই করার নেই। আমি ঊঠতে পারছি না সিংহাসন ছেড়ে। মেয়েটার নাচের তাল বেড়েই চলল। কেউ একজন হাতের তালি দিয়ে তবলার বোল দিচ্ছে। মেয়েটা নেচে চলেছে। তা ধিন ধিন ধা তা ধিন ধিন ধা- না তিন তিন না- তেটে ধিন ধিন ধা- ধা- আহ মাথার চার পাশ কেমন যেন হালকা হয়ে আসছে। এখন সামনে শুধু মেয়েটা নাচছে। আর কিছু শুনতে পারছিনা। খুব ঘুম পাচ্ছে। প্রচন্ড ঘুম। আমি ঘুমালাম- জীবনের শেষ ঘুম। আপনি এই সিংহাসন টাকে ধবংস করে দেবেন। ভুলেও লোভে পড়ে এতে বসবেন না। বসলেই নিশ্চিত মৃত্যু ................ ইতি রাওসিভ হাসান.।.। দুই মাস পর বর্ষা যাদুঘরে এসেছে ওর মা বাবার সাথে।ওর খুব শখ পুরাত্ন জিনিস পত্র দেখার। তাই প্রতিমাসে সে আসে জাতীয় যাদুঘরে। দেশের প্রায় প্রতিটি যাদুঘরে ও ঘুরে ঘুরে সব মুখস্থ করে ফেলেছে। কিন্তু সে এখন তিন তলার ডান পাশের রুমে নতুন যে সিংহাসন টার সামনে দাঁড়িয়ে আছে সেটা সে আগের বার আসার সময় দেখেনি। তাই মন যোগ দিয়ে সিংহাসন এর সামনে লেখা বর্ণনা পড়তে লাগল। তাতে লেখা- " পশ্চিম বাংলার জমিদার জ্ঞানদা চরণ এর হারিয়ে যাওয়া সিংহাসন এটা। পাওয়া গেছে গাজিপুরের হাসান পরিবারে। সিংহাসনটা জ্ঞানদা চরণ নিজে বসার জন্য বানায় নি। সেটা বানিয়ে ছিলেন তার ভাই রুক্ষদা চরণের জন্য। এটা ছিল একটা মরন ফাঁদ। এই সিংহাসন এর সব খানেই মেশানো আছে একধরনের অজানা বিষ। এই সিংহাসন এ বসলেই এই বিষ প্রবেশ করে বসা ব্যাক্তির উপর। তারপর আস্তে আস্তে ঐ ব্যাক্তির মৃত্যু হয়। জ্ঞানদা চরণ তার ভাইকে মারার জন্য এটা বানালে ও কুখ্যাত ডাকাত নিরঞ্জন পালী এটাকে হস্তগত করে। এর পর প্রায় ২০০ বছর এটার অস্তিত্ব অজানা ছিল। একমাস আগে হাসান ফ্যামিলির রাওসিব হাসানের মৃতদেহ আবিষ্কারের মাধ্যমে এটা ঊঠে আসে সভ্যতার সামনে। নিরীহ দর্শন এই সিংহাসন হত্যা করেছে প্রায় ৪০ জনের মত নিরীহ মানুষ কে। তাই এটা থেকে দূরে থাকুন ................ লেখাটা পড়েই বর্ষা খুব ভয় পেল। তারপর দৌড়ে চলে গেল ওর বাবার কাছে ...........

তাহলে কে এসেছিল

সকাল বেলা। বাজার থেকে ফিরে গোছল সেরে খেয়ে দেয়ে অফিস যাবার জন্য তৈরি হয়েছি । নীচের গেটে শব্দ। মা বলল, দ্যাখ তো বাদল, কে এল। সিঁড়ি বেয়ে নীচে নেমে এলাম। একতলায় অ্যাডভোকেট নাজমূল করিম ভাড়া থাকেন। সাধারণত কেউ এলে ওদেরই কেউ একতলার গেট খুলে দেয়। নাজমূল করিম সাহেব গতকাল পরিবার নিয়ে দেশের বাড়ি বেড়াতে গেছেন। আগামীকাল ফেরার কথা। পিকলুকে মিস করছি। পিকলু নাজমূল করিম সাহেবের ছেলে। ক্লাস সেভেনে পড়লেও পিকলু সঙ্গে আমার বেশ ভাব। পিকলুকে ঘুড়ি ওড়ানোর কলাকৌশল শেয়ার করতে করতে স্মৃতিকাতর হয়ে পড়ি। টিনের গেটটা খুললাম। কাপড়ের বোচকা হাতে একজন বৃদ্ধা দাঁড়িয়ে। পরনে কালো পাড় সাদা শাড়ি। ঘোমটার নীচে মুখটি বেশ ফরসা। চোখে কালো ফ্রেমের চশমা। মুখেচোখে এককালে শ্রী থাকলেও এখন কুঁচকে গেছে। কপালে পাকা চুলও চোখে পড়ল। বৃদ্ধাকে আমি এর আগে কখনও দেখিনি। বললাম, কাকে চান? বৃদ্ধা খনখনে কন্ঠে বলল, এইটা তৈয়বের বাড়ি না? তৈয়ব মানে, তৈয়বুর রহমান? হ। হ্যাঁ। তৈয়বুর রহমান আমার বাবা। আপনি ভিতরে আসুন। না, তুমি আগে তৈয়বরে ডাকো। আমি কি বলতে যাব। থমকে গেলাম। আমার বাবা গতবছর মারা গেছে। বৃদ্ধা বাবাকে চেনে অথচ বাবা যে গত বছর মারা গেছে তা জানে না। বললাম, মানে ... বাবা তো মারা গেছে। মারা গেছে? কবে? বৃদ্ধা তীক্ষ্মকন্ঠে জিগ্যেস করে। গত বছর।বললাম। হায় আল্লা, কও কি ... আমারে কেউ খবর দিল না। বৃদ্ধা আর্তনাদ করে উঠল। ততক্ষণে মা দোতলার বারান্দায় এসে দাঁড়িয়েছে। বলল, কে রে বাদল? আমি চিনি না মা। মুখ ফিরিয়ে বললাম। মরিয়ম বু না? বলে মা চেঁচিয়ে বলল। হ, আমি মরিয়ম। বৃদ্ধা মাথা নেড়ে বলে। দাঁড়াও। আমি আসছি। একতলার সিমেন্টের উঠানটি রাস্তা থেকে বেশ কিছুটা উঁচু। বললাম, আপনি ভিতরে আসেন। বলে বৃদ্ধার হাত ধরলাম। ধরেই চমকে উঠলাম। বৃদ্ধার হাত ভীষণ ঠান্ডা। আর ভেজা। যেন মরা মাছ ছুঁয়েছি। মা নীচে নেমে এল। বৃদ্ধাকে জড়িয়ে ধরে বলল, কত বছর পর তোমারে দেখলাম মরিয়ম বু। আমাগো একদম ভুইলা গেছ। বলে আমার দিকে তাকিয়ে মা বলল, মরিয়ম বু তোর আব্বার ফুপাত বোন। জগদীশপুর থাকে। ও। আমি ঘড়ি দেখি। অফিসের দেরি হয়ে যাচ্ছে। বললাম, মা, আমি গেলাম। মা বলল, আচ্ছা, তুই যা। চল, বুবু, ওপরে চল। তেমারে কতদিন পর দেখলাম । সেই বিয়ে পর একবার দেখছিলাম। গলিতে নেমে এসে একটা সিগারেট ধরালাম। বেশ ঝকঝকে রোদ উঠেছে। সকালের দিকে অবশ্য মেঘলা ছিল। আমার অফিস কাছেই। আমার ভাগ্য ভালো। এইচএসসি-র পর ঢাকা শহরে পড়াশোনা করলেও নিজের মফঃস্বল শহরেই একটা প্রাইভেট ব্যাঙ্কে চাকরি পেয়ে গেছি। বাবা গত বছর মারা যাওয়ার পর ছোট্ট সংসারে আমি আর মা। আমার অবশ্য বড় এক বোন আছে। শাপলা আপার বিয়ে হয়ে গেছে। শ্বশুরবাড়ি রূপপুর। ফাঁকা শূন্য ঘরে আমার মায়ের ভালো লাগে না। মা আমার জন্য পাত্রী দেখছে। আমার চাকরির পর মা আমার বিয়ের ব্যাপারে সিরিয়াস হয়েছে। পাত্রী অবশ্য একরকম ঠিক। নাদিরা। এ শহরেরই মেয়ে। শাপলা আপার বান্ধবী শিখা আপার ছোট বোন। ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে স্থানীয় একটি মহিলা কলেজে বি . এ পড়ছে নাদিরা। প্রায়ই আমাদের বাড়ি আসে। মায়ের সঙ্গে খুব ভাব নাদিরার। নাদিরাকে সঙ্গে নিয়েই মা বিয়ের শাড়ি কিনছে। নাদিরার বড় মামা কুয়েত থাকেন। মাস খানেক পর তিনি দেশে ফিরবেন। তখন বিয়ে। সন্ধ্যায় অফিস থেকে ফেরার পথে মরিয়ম ফুপুর কথা মনে হল। অফিস থেকে হাঁটতে- হাঁটতে বাজারে গেলাম। এলোমেলো ঘুরলাম কিছুক্ষণ। কি কিনব বুঝতে পারছি না। সকালে বাজারে এসে বড় একটা রুইমাছ কিনেছি। তরিতরকারিও আছে ঘরে। বেছে- বেছে দরদাম করে এক ডজন কমলা কিনলাম । হঠাৎ মনে পড়ল। মা কালরাতে সুপারি কিনতে বলেছিল। সুপারি কিনে বাজারের বাইরে এসেছি। ঠিকই তখনই মনিরুল ভাইয়ের সঙ্গে দেখা। মনিরুল ভাই সেতারা ফুপুর ছেলে। সেতারা ফুপু আমার বাবার খালাতো বোন। সেতারা ফুপুরা তালতলা থাকে। অনেক দিন দেখা সাক্ষাৎ নাই। মনিরুল ভাইয়ের সঙ্গেও অনেক দিন পরে দেখা। মনিরুল ভাই পোলট্রির বিজনেস করেন। বললেন, মা খুব অসুস্থ। শুনে আমার মন খারাপ হল। বললাম, আজকালের মধ্যেই মাকে নিয়ে তালতলা যাব। মনিরুল ভাইয়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে গলিতে হাঁটছি। লোড শেডিং চলছিল বলে গলি অন্ধকার। সেতারা ফুপু অসুস্থ শুনে খারাপ লাগছিল। আজকাল সেতারা ফুপুদের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ কমে গেলেও এককালে যোগাযোগ ছিল। ছেলেবেলায় সেতারা ফুপু আমাকে আদর করতেন । ঘুড়ি কেনার পয়সা দিতেন । বাড়ির সামনে আসতেই কারেন্ট এল। দরজা খুলল মা। বললাম, বাজারে মনিরুল ভাইয়ের সঙ্গে দেখা। কি কইল মনিরুলে? ওর মায়ে কেমন আছে? বললাম, সেতারা ফুপু অসুস্থ। শুনে মা অস্থির হয়ে উঠল। বলল, তুই কালই আমারে তালতলা নিয়া চল। বললাম, আচ্ছা, তোমাকে কালই তালতলা নিয়ে যাব। ঘরে ঢুকে রান্নার চমৎকার গন্ধ পেলাম। রান্নাঘরে এলাম। মরিয়ম ফুপু চুলার সামনে বসে । হাতে কমলার
ঠোঙা দিতেই ফুপুর আঙুলের স্পর্শে চমকে উঠলাম। হাত কেমন ঠান্ডা। যেন মরা মাছ ছুঁয়েছি। মরিয়ম ফুপু অদ্ভুত শব্দ করে হেসে উঠল। চশমার কাঁচের ওপাশে চোখ দুটি যদিও নিষ্প্রাণ দেখাচ্ছি। আমার শরীর শিরশির করে উঠল। রাতে খেতে বসে অবাক হলাম। মুগের ডালের খিচুরি আর ধনে পাতা দিয়ে রুই মাছ। চমৎকার রান্না। মা বলল, তোর মরিয়ম ফুপুর রাঁধছে । তোর আব্বায় মুগের ডালের খিচুরি আর ধনে পাতা দিয়ে রুই মাছ পছন্দ করত। ওহ্ । রাতে ঘুম এল না। বারবার ঘুম ভেঙে যাচ্ছিল। রাত সাড়ে এগারোটার দিকে একবার নাদিরা মিস কল দিয়েছিল। তখন মোবাইলে নাদিরার সঙ্গে বেশ খাণিক ক্ষণ উষ্ণ প্রেম হল। মোবাইলের কল্যাণে এখন এসব মফঃস্বল শহরেও পৌঁছে গেছে। তারপর ক্লান্ত হয়ে কখন ঘুমিয়ে পড়েছি। ঘুম ভাঙার পর মনে হল ঘরে আমি একা নই। আরও কেউ আছে। যে আছে সে অন্ধকারে ঘরে হাঁটছে। ঘর অবশ্য একেবারে অন্ধকার নয়। জানলা গলে চাঁদের সাদা আলো ঢুকেছে ঘরে। খুট করে শব্দ হল। মনে হল কেউ কিছু খুঁজছে। বেশ ভয় পেলাম। আমার শরীর ঘামে ভিজে গেছে । সাহস করে উঠে বসলাম। তারপর আলো জ্বালালাম। নাঃ, ঘরে কেউ নেই। আবার আলো নিভিয়ে শুয়ে পড়লাম । তার আগে ঘড়ি দেখলাম। রাত দেড়ট বাজে। জানালায় অস্থির বাতাস। আর জোছনার আলো । একটা সিগারেট ধরালাম। গন্ধটা বাজে ঠেকল। মনে হল তামাকের বদলে আলকাতরা ভরে দিয়েছে। বিরক্ত হয়ে সিগারেটটা অ্যাসট্রেতে গুঁজে দিলাম। ভিতরে-ভিতরে ভীষণ চঞ্চল বোধ করছি। কেন জানি না। বিছানা থেকে উঠে জানালার কাছে এলাম । নীচে তাকিয়ে চমকে উঠলাম। সিমেন্টের উঠানের ঠিক মাঝখানে পিকলু দাঁড়িয়ে। হাতে নাটাই। ওরা কবে এল? এখন রাত প্রায় দুটো বাজে । এত রাতে পিকলুর তো উঠানে দাঁড়িয়ে থাকার কথা না। জলদি বারান্দায় এলাম। নীচে তাকিয়ে দেখি উঠানে কেউ নেই। ঠিক তখনই বসার ঘরে শব্দ হল। কে যেন চেয়ার সরাল। দ্রুত বারান্দা থেকে বসার ঘরে এলাম। বসার ঘরে আগরবাতির গন্ধ। আশ্চর্য! ঠিক তখনই শোওয়ার ঘর থেকে ‘ঘটাং’ শব্দ হল । শোয়ার ঘরের পুরনো লোহার আলমারীটা খোলার সময় এরকম ‘ঘটাং’ করে শব্দ হয়। আশ্চর্য! এত রাতে কে আলমারী খুলল? মার তো ঘুমিয়ে থাকার কথা। দ্রুত শোয়ার ঘরে এলাম। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে আলো জ্বালালাম। নাঃ, আলমারী বন্ধ। ঘরের ঠিক মাঝখানে বড় একটি পুরনো আমলের পালঙ্ক। তারই একপাশে মা গুটিশুটি মেরে শুয়ে। পাশে ফুপু নেই। ফুপু গেল কই? বাথরুমের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। দরজার নীচে আলো । পানি পড়ার শব্দ শুনতে পেলাম । ওহ্, ফুপু তাহলে বাথরুমে? ঘরের আলো নিভিয়ে আমি ঘরে ফিরে আসি। একবার জানালায় উঁকি দিই। নাঃ, নীচের উঠানে কেউ নেই। কেবল সাদা জোছনার আলোয় ভরে আছে। নাহ্, আমারই মনের ভুল। পর দিন দুপুর। অফিস থেকে ছুটি নিয়ে বাড়ি ফিরেছি । মা তৈরি হয়ে ছিল। জিগ্যেস করলাম, মরিয়ম ফুপু কি তালতলা যাবে? মা বলল, না। সকাল থেকে মরিয়ম বুর শরীর খারাপ। ঘুমায় আছে। থাক, ঘুমাক তাহলে। বললাম। নীচে নেমে আমি আর মা পাশাপাশি হাঁটছি। বাসস্টপটা কাছেই। বাসস্টপ থেকে আপেল- কমলা কিনে বাসে উঠলাম। তালতলা জায়গাটা কাছেই। পৌঁছতে সময় লাগবে না। সাত কিলোমিটারের মতো বাসরাস্তা । বাসে মাকে বললাম, মরিয়ম ফুপু আমাদের ঠিক কেমন আত্মীয় হয় বল তো ? মা বলল, মরিয়ম বু তোর আব্বার ফুপাত বোন। তোর আব্বার সঙ্গে মরিয়ম বু-র বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। মরিয়ম বুর আব্বা বিয়াতে রাজি হয় নাই। তারপর জোর কইরা মরিয়মের জগদীশপুর বিয়া দেয়। ও। তাহলে মরিয়ম ফুপুর একটা বিষন্ন অতীত আছে? তার টানেই এসেছে? এখন বেশ বুঝতে পারছি বাবার মুখে কেন কখনও মরিয়ম ফুপুর কথা শুনিনি। কেন বাবা কখনও জগদীশপুরের কথাও বলেনি। তবু খটকা গেল না। মরিয়ম ফুপু বাড়ি চিনলেন কি করে? বৃদ্ধা মানুষ। একা এলেনই বা কি করে? মা বলল, আমার বিয়ার পর মরিয়ম বুরে একবার দেখছিলাম। তিরিশ বছর আগে। আমারে হিংসা করে মরিয়ম বু। হিংসা করে কেন? আমি অবাক। তর আব্বা লগে আমার বিয়া হইল বইলা। ও। এরপর মা বলল, কালাই আমারে মরিয়ম বু জিগ্যাস করল, তোমার বিয়ার গয়নাগাঁটি সব কি করছ মমতাজ। কইলাম, বাদলের বিয়া ঠিক হইছে। গয়নাগাঁটি আমি ওর বৌয়েরে হাতে দিমু। দেখি মরিয়ম বুর মুখ কেমন কালো হয়ে গেল। কইল, তৈয়ব ভাইয়ের লগে আমার বিয়া হইলে গয়নাগাঁটি আমিই পাইতাম। শুনে অবাক হয়ে গেলাম। তালতলা অনেক দিন পরে এলাম। পাঁচ-সাত বছর তো হবেই। কেবল শহর নয়, এখন মফঃস্বলের
লোকজনের মধ্যেও দূরত্ব বেড়েছে। তালতলায় সেতারা ফুপুদের টিন সেডের বাড়িটি গাছপালায় ঘেরা। বাড়ির সামনে উঠান। বাঁ পাশে গোয়াল ঘর। জামরুল গাছ। পুকুর । ছেলেবেলায় ওই পুকুরে অনেক দাপাদাপি করে। মনিরুল ভাই পোলট্রির ব্যবসা ছাড়াও মাছ চাষও করে । পুকুর পাড়ে ঘন বাঁশ ঝাড়। অস্থির বাতাসে শরশর শব্দ। বাসে ওঠার পর আকাশে মেঘ জমেছে। বৃষ্টি হতে পারে। উঠানে মনিরুল ভাইয়ের বউ সালমা ভাবী দাঁড়িয়ে। কাপড় তুলছিল। আমাদের দেখে হাসল। তারপর দৌড়ে বারান্দায় কাপড় রেখে ফিরে এসে মাকে সালাম করল। বলল, আসেন। ঘরে আসেন। তারপর আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলল, কেমন আছেন বাদল ভাই? বললাম, ভালো। বলে, আপেল-কমলার ঠোঙা দিলাম সালমা ভাবীর হাতে। সেতারা ফুপু একটা ঘরে শুয়ে আছে। শরীর আগের তুলনায় অনেক ছোট হয়ে গেছে। কালো মুখটা। বিশেষ করে চোখের চারপাশে ঘন কালি জমে আছে। মাথা ন্যাড়া। মনিরুল ভাই গতকালই ইঙ্গিত দিয়েছিল ... ক্যান্সার। মা অনেক ক্ষণ। কাঁদল। দুজনের অনেক কথা হল। বেশির ভাগই পুরনো দিনের। আমি ফুপুর মাথার কাছে বসলাম। ফুপু আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। টিনের চালে তখন বৃষ্টির ফোঁটার শব্দ। ঘরটা অন্ধকার হয়ে এসেছে। সালমা ভাবী পান নিয়ে এল । তারপর ঘরের আলো জ্বালিয়ে বলল, আপনার ভাইরে ফোন করছি। এখনই আসতেছে। মা পান মুখে দিয়ে বলল, মরিয়ম বু আমাগো বাড়িত বেড়াইতে আসছে। কার কথা কও? কোন মরিয়ম? সেতারা ফুপু ক্ষীণ দূর্বল কন্ঠে বললেন। মা বলল, ওই যে মরিয়ম। বাদলের আব্বার ফুপাতো বোন। যার জগদীশপুরে বিয়া হইছিল। সেতারা ফুপু আর্তস্বরে বলল, হায় হায়। কও কি ভাবী ! মরিয়ম তো পাঁচ বছর আগে মারা গেছে। মারা গেছে! কি কও সেতারা বু? বলে মা আমার দিকে তাকাল। আমি থ। মরিয়ম ফুপু মারা গেছে মানে? হ। পাঁচ বছর হইল। সালমা গো বাড়িও জগদীশপুরে। আমরা তখন জগদীশপুরে বেড়াইতে গেছিলাম। সালমাও মরিয়মরে চিনে। হ। চিনি। বলে সালমা মাথা নাড়ল। মনিরুল ভাই এলেন। অনেকটা ভিজে গেছেন। মাকে সালাম করলেন। তারপর সব শুনে মনিরুল ভাইও বললেন: মরিয়ম ফুপু মারা গেছেন পাঁচ বছর আগে। তখন মনিরুল ভাইও জগদীশপুরে ছিলেন। কবর দেওয়ার সময়ও ছিলেন। মা আমার দিকে অবিশ্বাসের চোখে তাকিয়ে রইল। ফিসফিস করে বলল, এরা কি কয় রে বাদল? তাইলে আমাগো বাড়িতে কে আইল? আমি আর কি বলব। এতগুলো লোক কি আর মিথ্যে কথা বলবে? হঠাৎ আসা বৃষ্টিটা কমে এসেছে। যত শিগগির সম্ভব বাড়ি যাওয়া দরকার। বিদায় নিয়ে বেরিয়ে এলাম। বাসস্টপ পর্যন্ত ছাতা নিয়ে মনিরুল ভাই এলেন। ঝিরঝির বৃষ্টির মধ্যে বাসে ছাড়ল। বাসে মায়ের সঙ্গে তেমন কথা হল না। দুজনে গভীর চিন্তায় ডুবে ছিলাম। মা কেবল একবার বলল, এরা কি কইল রে বাদল। মরিয়ম বু নাকি বাঁইচা নাই। তা হইলে কে আইল? বাড়ি না-ফেরা পর্যন্ত কিছু বলতে পারছি না। বললাম। বাস থেকে নেমে হাঁটছি। ততক্ষণে আবার ঝরঝরে রোদ উঠেছে। তখনও ঘোর কাটেনি। মরিয়ম ফুপুকে আমি গতকাল দু- বার স্পর্শ করেছি। দু- বারই অত্যন্ত শীতল অনুভূতি হয়েছে। মরিয়ম ফুপুর চোখের দৃষ্টিও কেমন নিষ্প্রাণ। মাথায় একটি প্রশ্ন ঘুরছিল: মরিয়ম ফুপু যদি মারাই যাবেন তা হলে আমাদের বাড়ি যে এসেছে সে কে? কেন এসেছে? মরিয়ম ফুপু বাবাকে খুব ভালোবাসত। বাবা মুগের ডালের খিচুরি আর ধনে পাতা দিয়ে রুই মাছ খেতে ভালোবাসে বলে রাঁধল। মায়ের কাছে বিয়ার গয়নাগাঁটি খোঁজ নিল। আশ্চর্য! কাল রাতে ঘরে খুটখাট শব্দ পাচ্ছিলাম। যেন কেউ কিছু খুঁজছে। মরিয়ম ফুপু আমাদের বাড়ি আসার পর থেকেই অদ্ভূত সব ঘটনা ঘটছে। পিকলুকে দেখলাম গতকাল মাঝ রাতে জোছনার ভিতর নীচের উঠানে দাঁড়িয়ে থাকতে। ...
ঘটনা ঘটছে। পিকলুকে দেখলাম গতকাল মাঝ রাতে জোছনার ভিতর নীচের উঠানে দাঁড়িয়ে থাকতে। ... এসব ভেবে আমার কেমন শীত-শীত করতে লাগল। আমি আর মা পাশাপাশি হাঁটছি। দূর থেকে দেখলাম বাড়ির গেটের সামনে পিকলু দাঁড়িয়ে। ওকে দেখে স্বস্তি পেলাম। পিকলুর পরনে হলুদ গেঞ্জি আর নীল হাফ প্যান্ট। হাতে নাটাই। স্কুলের মাঠে যাচ্ছে বলে মনে হল। কাছে এসে বললাম, কি রে, তোরা কখন এলি? একটু আগে। বলে মিষ্টি হাসল। তারপর বলল, দেখ না বাদল ভাই, দাদুবাড়ির হাট থেকে নতুন নাটাই কিনেছি। আমি হেসে মাথা নাড়লাম। একটু পর সিঁড়ি দিয়ে উঠছি। সিঁড়িতে নাদিরা কে দেখলাম । নীচে নেমে আসছে। মাকে দেখে ভীষণ চমকে উঠল নাদিরা। তারপর ওমাঃ। বলে হাত দিয়ে মুখ চাপা দিল। চশমা পরা ফরসা মুখটা কেমন ভয়ে আতঙ্কে নীল হয়ে গেছে। চোখে অবিশ্বাসের দৃষ্টি। মায়ের দিকে চেয়ে খসখসে কন্ঠে নাদিরা বলল, আপনি! এখানে! হ। আমি। ক্যান। কি হইছে? তাহলে ঘরে আমি কাকে দেখলাম? কারে দেখলা? নাদিরা বলল, আপনাকে দেখলাম। আপনি আমাকে বিয়ের শাড়ি বের করে দেখালেন। কও কি? দরজা খুলল কে? নাদিরা বলল, কেন আপনি? বললেন, আস মা। বাদল এখনও অফিস থেকে ফেরেনি। আমি বললাম, ঘরে আর কাউকে দেখনি? বৃদ্ধ মতন ? না তো। নাদিরা বলল। আমরা দ্রুত উপরে উঠে এলাম। ফাঁকা ঘর। কেউ নেই। মরিয়ম ফুপুর কই গেল? আশ্চর্য! মা দ্রুত শোবার ঘরে ঢুকল। পালঙ্কের ওপর শাড়ির স্তূপ। এলোমেলো ছড়িয়ে। শাড়িগুলি আমার পরিচিত। নাদিরার বিয়ের শাড়ি। ঘরের আসবাবপত্রগুলি সব ওল্টানো। অগোছালো। আলমারী খোলা। মা আর্তচিৎকার করে আলমারীর কাছে ছুটে গেল । তারপর ঝুঁকে বসে আলমারীর নীচের একটি ড্রয়ার খুলল। তারপর ‘হায় আল্লা’ বলে চিৎকার করে উঠল। কি হল! আমি ভীষণ ঘাবড়ে গিয়ে জিগ্যেস করি। গয়নার বাক্সটা নাই ! মরিয়ম নিয়া গেছে কবরে। গয়না নাদিরারে দিব না। কথাটা শুনে আমার সারা শরীর জমে যায় ...
bhooterblog.tk. Powered by Blogger.

Test Footer 2

Subscribe to our newsletter

×
Chat